অবৈধ স্থাপনা ভেঙে জেনারেটর বন্ধ করেছিল প্রশাসন, তিন দিনের মাথায় ফের চালু
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে সরকারি জায়গায় জেনারেটর স্থাপন ও সেটিকে স্থায়ীভাবে রাখার জন্য নতুন করে অবৈধ কক্ষ নির্মাণের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং নির্মিত অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে দেন। একই সঙ্গে জেনারেটরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেনারেটরটি চালু থাকায় উচ্চশব্দ ও ধোঁয়ার কারণে আশপাশের পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের জেনারেটরটি পুনরায় চালু না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি জায়গায় নতুন করে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না করতেও সতর্ক করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছিল, নির্দেশনা অমান্য করে জেনারেটর পুনরায় চালু করা হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জেনারেটরসহ সংশ্লিষ্ট মালামাল সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
কিন্তু প্রশাসনের অভিযানের মাত্র তিন দিনের মাথায় সেই জেনারেটর আবারও চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে?প্রশাসনের নির্দেশনার পরও কীভাবে সরকারি জায়গায় জেনারেটরটি আবার চালু হলো? সংশ্লিষ্টরা কি প্রশাসনের নির্দেশনাকে তোয়াক্কাই করছেন না?
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জেনারেটর বন্ধ করে দেওয়ার পরও যদি একই জেনারেটর আবার চালু করা হয়, তাহলে এটি প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। তারা দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাকে কেউ জানায়নি। আমি জানি না।”
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি জায়গা দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও জেনারেটর চালুর মতো ঘটনায় যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি জায়গা দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে অন্যরাও উৎসাহিত হতে পারে।
তাদের দাবি, শুধু স্থাপনা ভেঙে দেওয়া বা একবার জেনারেটর বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়; প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে পুনরায় জেনারেটর চালু করার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।