ডেস্ক রিপোর্ট:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রেমিক শান্ত পালকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সফিপুরের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই তরুণীকে কয়েক দফা ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর ধরে ওই তরুণীর সঙ্গে শান্ত পালের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রোববার সকালে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তরুণী। পরে কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় শান্ত পালের সঙ্গে তার দেখা হয়। সেখান থেকে তাকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের পরিবারের দাবি, ওই বাসায় কয়েক দফা ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তরুণী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের দাবি, তরুণীর মৃত্যুর বিষয়টি শান্ত পাল মোবাইল ফোনে তার পরিবারের সদস্যদের জানান। এরপর ওই রাতেই তরুণীর মরদেহ নিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা শান্ত পালকে আটক করেন।
পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করে ভালুকা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। বিষয়টি কালিয়াকৈর থানাকে জানানো হলে সেখানকার পুলিশ শান্ত পালকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এদিকে নিহতের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিহত তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মধ্যপাড়া বাজার এলাকায়। গ্রেফতার শান্ত পাল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল পালপাড়া গ্রামের সুনিল চন্দ্র পালের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈরের সফিপুর আহমদনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
ঘটনার পরদিন সোমবার নিহতের বাবা মনি বনিক বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় শান্ত পালকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় শান্ত পালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।