
কুড়িগ্রাম জেলা, প্রতিনিধি :কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কামাল খামার সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগে অনিয়ম, টিউশন ফি আত্মসাৎ এবং গভর্নিং বডির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একাধিক মামলায় জড়িয়েছে। ফলে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গভর্নিং বডির পদত্যাগী সদস্য এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির ১১ জন সদস্য গত ৩ মে ২০২৬ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একযোগে পদত্যাগ করেন। তাদের দাবি, অধ্যক্ষ মাওলানা লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিকার না পাওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। তবে পদত্যাগের প্রায় দুই মাস পরও তাদের স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০১১ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকেই লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত না থেকেও ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে বেতন-ভাতা ও টিউশন ফি উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া অফিস সহায়কের মাধ্যমে হাজিরা খাতা বাইরে নিয়ে গিয়ে পুরো মাসের উপস্থিতি দেখানো, গভর্নিং বডির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে আত্মীয় আবু নোমানকে প্রায় ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে আরবি প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একইভাবে সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলামকে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে টাকা ফেরত চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে চাকরিচ্যুত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীরা জানান, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অধ্যক্ষ নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে নতুনভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। পরে গভর্নিং বডির সদস্যদের না জানিয়ে পাঁচটি পদে নিয়োগের জন্য পরপর দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পদত্যাগী সদস্যরা গত ৬ মে ২০২৬ ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের কাছে তদন্ত ফি জমা দিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও নিয়োগসংক্রান্ত কোনো প্রতিনিধি না পাঠানোর আবেদন করা হয়। তবে প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারীরা।
এদিকে গভর্নিং বডির সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম উলিপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা (নং-১৮৫/২০২৬) দায়ের করেছেন। এছাড়া অপর এক সদস্য অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উলিপুর আমলি আদালতে প্রতারণার অভিযোগে আরেকটি মামলা (নং-১৭৩/২০২৬) করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গভর্নিং বডির সভাপতি ওবায়দুর রহমান বলেন, বর্তমান গভর্নিং বডির মাধ্যমেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষক প্রতিনিধি পদত্যাগের কোনো বৈধতা নেই। তারা স্বাক্ষর না করলেও কোরাম পূরণ করে নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যক্ষ মাওলানা লিয়াকত আলীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকরা।
Leave a Reply