
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
সংসারের অভাব ঘোচাতে ঢাকায় কখনো রিকশা চালিয়েছেন, কখনো বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করেছেন মো. রিয়াজুল ইসলাম। দিন-রাত পরিশ্রম করে স্ত্রী ও এক ছেলের সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ জ্বর দিয়ে শুরু, পরে জন্ডিস। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায় দুই কিডনিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেখা দিয়েছে লিভারেও সমস্যা,অসুস্থতা কেড়ে নিয়েছে তার কর্মক্ষমতা। এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবন বাঁচানোর লড়াই করছেন তিনি।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের কৃষ্ণমঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম গত ৬ সেপ্টেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার দুই কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। নিয়মিত ডায়ালাইসিসসহ চলছে চিকিৎসা।
রিয়াজুল ইসলাম কৃষ্ণমঙ্গল গ্রামের মো. আবুল কাশেম ও রেনু বেগমের ছেলে। তার স্ত্রী ও এক ছেলে রয়েছে। ঢাকায় রিকশাচালক ও বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন তিনি। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তার আয় বন্ধ রয়েছে।
পরিবারের হিসাবে, প্রতিদিন চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারের সামান্য যে সঞ্চয় ছিল, সেটিও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে ধারদেনা করে রিয়াজুলের চিকিৎসা চালিয়ে নিচ্ছেন স্বজনেরা।
রিয়াজুলের বড় ভাই আনোয়ারুল ইসলাম রানা বলেন, ‘সামান্য যে সঞ্চয় ছিল, সেটাও চিকিৎসায় শেষ হয়ে গেছে। এখন ধারদেনা করে চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে। ভাইকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার খরচ চালানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বলেন,প্রশাসন সবসময় অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। রিয়াজুলের বিষয়টিও আমরা মানবিক দৃষ্টিতে দেখছি। তার চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
রিয়াজুলের চিকিৎসা যেন অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে না যায়, সে জন্য সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা,অগ্রণী ব্যাংক, রংপুর শাখা
সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ০২০০০২৪৭২৯৪৯৬ বিকাশ:০১৭২৮৩৩১৫৮৫ পরিবারের আশা, মানুষের সহায়তায় রিয়াজুল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে সুস্থ হয়ে আবার স্ত্রী-সন্তানের কাছে ফিরতে পারবেন।
Leave a Reply