
ডেস্ক রিপোর্ট :ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা বালুভর্তি দুটি ট্রলার স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় রেখে যাওয়ার পর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে মোখলেছুর রহমান (৪০) ওই ঘটনার নেতৃত্ব দেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের বটতলা বালুঘাট এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বালুভর্তি দুটি ট্রলার জব্দ করা হয়। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ, সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান শেষে জব্দ করা ট্রলার দুটি উচাখিলার বটতলা থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর ইউনিয়নের চর রামমোহন এলাকায় নেওয়া হয়। পরে নদীপথে লাঠিয়ামারি এলাকায় পৌঁছে ট্রলার দুটি স্থানীয় উবায়দুর রহমান (৪৫)-এর জিম্মায় রেখে আসে প্রশাসন। সিদ্ধান্ত ছিল, জব্দ দেখিয়ে উদ্ধার করা বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন চলে যাওয়ার পর মরিচারচর গ্রামের মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন দেশীয় অস্ত্রধারী সেখানে গিয়ে জিম্মাদারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুটি ট্রলারের বালু নিয়ে যায়।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জিম্মাদারের নাম উবায়দুর রহমান বলা হলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে ওই নামে কোনো ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মোখলেছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে আমরা জানি। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বালু উদ্ধার করলেও পরে তা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চর রামমোহন ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে। তাঁদের দাবি, উদ্ধার করা দুটি ট্রলারের বালু ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে মোখলেছুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সরকারি অভিযানে উদ্ধার করা বালু জিম্মায় রাখার পর তা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্ধার করা আলামত সংরক্ষণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছুটিতে থাকায় দায়িত্বরত এসআই রাশেদ মোশাররফ বলেন, উদ্ধারকৃত বালু স্থানীয় একজনের জিম্মায় রেখে আসার পর ঘটনাটি ঘটেছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভালো বলতে পারবেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলুন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী (কাম-কম্পিউটার) মোহাম্মদ মাজহারুল করিম জানান, স্যার অসুস্থ থাকায় ফোন ধরতে পারছেন না।
Leave a Reply