
শাকুর মাহমুদ চৌধুরী (উখিয়া) কক্সবাজার:
কক্সবাজারের উখিয়ায় চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। গাছভরা সুপারি পাকতে শুরু করায় উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে হলুদ রঙের পাকা সুপারি। বাজারে সুপারির ব্যাপক সরবরাহ ঘিরে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। তবে উৎপাদনের পাশাপাশি ন্যায্য দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সুপারি চাষিরা।
উখিয়ার সোনাপাড়া বাজার, মরিচ্যা বাজার, উখিয়া বাজার ও কোটবাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন বিক্রি হচ্ছে মৌসুমের পাকা সুপারি। বাজারের বিভিন্ন স্থানে সারি সারি হলুদ রঙের সুপারি সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠছে সুপারির বেচাকেনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি, পাহাড়ি টিলা ও বাগানে প্রচুর সুপারি গাছ রয়েছে। এসব গাছে এ মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় চাষিরা সুপারি সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসছেন। সুপারি বিক্রি করে অনেক পরিবার মৌসুমি বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছে।
সুপারি উখিয়ার গ্রামীণ অর্থনীতির একটি পরিচিত কৃষিপণ্য। মৌসুমে সুপারি বিক্রির মাধ্যমে স্থানীয় চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছেন। তবে উৎপাদন বেশি হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা চাষিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিবহন খরচ, বাজারদর ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের বিষয়গুলোও সুপারির প্রকৃত লাভ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় চাষিদের প্রত্যাশা, সুপারির ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হলে তাঁরা উৎপাদন খরচ মিটিয়ে পরিবার-পরিজনের জন্য বাড়তি আয় করতে পারবেন। একই সঙ্গে সুপারি সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে এ কৃষিপণ্যকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও গতি আসবে।
সব মিলিয়ে উখিয়ার হাট-বাজারে হলুদ রঙের পাকা সুপারির সমারোহ এখন মৌসুমি কৃষি অর্থনীতির এক পরিচিত চিত্র। বাম্পার ফলনের এই সময়ে চাষিদের মুখে হাসি ধরে রাখতে উৎপাদনের পাশাপাশি ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করাই এখন তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা।
Leave a Reply