
মানববন্ধনের ব্যানারে উত্থাপিত দাবিগুলো
🔴 হামিদুল ইসলামের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটন করতে হবে।
🔴 ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
🔴 চিহ্নিত ও অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
🔴 নিহতের পরিবারের ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
🔴 আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
🔴 ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
🔴 প্রয়োজনে কুড়িগ্রাম জেলা অচল করে দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হবে, এমন হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা।
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের উলিপুরে হামিদুল ইসলাম (২৮) ওরফে বাবুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা। মানববন্ধন থেকে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি, এমনকি কুড়িগ্রাম জেলা অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের নিরাশির পাথার এলাকায় উলিপুর-চিলমারী সড়কের পাশ থেকে হামিদুলের মরদেহ উদ্ধার করে উলিপুর থানা পুলিশ। নিহত হামিদুল পশ্চিম সাদুল্যা এলাকার জোবেদ আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মরদেহের চোখ, মুখ ও বাম কানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। বাম পায়ের বড় আঙুলেও আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে তারা জানান। মরদেহের এসব চিহ্ন ঘিরে তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হামিদুল সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, হামিদুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে ক্ষোভ
হামিদুলের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে কুড়িগ্রাম-চিলমারী মহাসড়কের বড় মসজিদ মোড় এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের স্বজন, শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহতের মা আম্বিয়া বেগম, বাবা জোবেদ আলী, বোন সাবানা খাতুন, ভাবি ঈশিতা বেগম, কুড়িগ্রাম জেলা ট্রাক-ট্যাংকলড়ী-কাভার্ডভ্যান-ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সভাপতি আয়নাল হক এবং উপজেলা ট্রাক-লরি-ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ ছাড়া আব্দুল খালেক, মিলন ইসলাম, রমজান আলী ও এরশাদুল হকসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, হামিদুলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নের কথা জানা গেছে। তাই ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড,তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
মানববন্ধনে কুড়িগ্রাম জেলা ট্রাক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামিদুলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হলে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কুড়িগ্রাম জেলা শহর অচল করে দেওয়ার মতো কর্মসূচিও পালন করা হবে।এ সময় বক্তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
হামিদুলের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড,এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
Leave a Reply